Join The Community

Search

Tuesday, August 12, 2014

অন্য রকম উদ্যোক্তা

ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) নির্মাতা প্রতিষ্ঠান পাইল্যাবসসহ বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা তিনি। গড়ে তুলেছেন 'অন্যরকম গ্রুপ'। তাঁর অনলাইনে বই বিকিকিনির প্রতিষ্ঠান রকমারি ডটকম বেশ সুনাম কুড়িয়েছে। উদ্যোক্তা হয়ে ওঠার গল্প শোনাচ্ছেন মাহমুদুল হাসান সোহাগ

অন্যরকম গ্রুপের চেয়ারম্যান মাহমুদুল হাসান সোহাগ




ছোটবেলা থেকেই গতানুগতিক কিছু করতে চাইতাম না। সব সময় ভাবতাম অন্য রকম কিছু করতে হবে। তাই আমার গ্রুপ অব কম্পানিজের নামও হয়তো 'অন্যরকম গ্রুপ'। বাংলাদেশে প্রায় সবাই পাস করে চাকরিতে ঢুকতে চায়। সেখানে আমার আলাদা কিছু করার ইচ্ছা ছিল। কোনো সমস্যা দেখলেই সেটা সমাধানের চেষ্টা করার প্রবণতা আমার আছে। পরে ভাবলাম উদ্যোক্তা হলে এ ভূমিকায় থাকা যাবে।

২০০২ সালের শুরুর কথা। আমরা তিন বন্ধু মিলে আউটসোর্সিং করতাম। সফটওয়্যার ও ইলেকট্রনিক্স মিলে আমরা পাইল্যাবস বাংলাদেশ লিমিটেড নাম দিই। আমার বন্ধু মাসুম হাবিবের কোনো কম্পিউটার ছিল না। নবম শ্রেণিতে পড়ার সময় ও শিখে ফেলে প্রোগ্রামিং। আমাদের মধ্যে সে-ই ছিল সবচেয়ে অভিজ্ঞ। আমরা বাইরের দেশের কিছু সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্টের কাজ পাই। পেমেন্টের টাকা দিয়ে ও কম্পিউটার কেনে। মানুষ কাজ করতে গিয়ে নানা অজুহাত দেয়, আমার এটা নেই। মাসুম প্রোগ্রামিং শিখেছে, সফটওয়্যার বানিয়েছে, সেটা বিদেশে বিক্রি করেছে, অথচ তার কোনো কম্পিউটার ছিল না।

তখন বন্ধুরা পড়াশোনার বাইরে কিছু করা যায় বলতে টিউশনি করা বুঝত। সবার উৎসাহ, এরা কী করে। আমাদের কাজের কথা বন্ধুদের অনেকেই জেনে যায়। তাদের আত্মীয়স্বজন যাদের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান আছে, তাদের মাধ্যমে কিছু কাজ পাই। শুরুতে আমরা সফটওয়্যার ও ইলেকট্রনিক্সের কাজ একসঙ্গে করতাম। পরে পাইল্যাবস থেকে সফটওয়্যারের অংশ আলাদা করে এর নাম দিই অন্যরকম সফটওয়্যার লিমিটেড। পাইল্যাবসে মূলত আমরা গবেষণার কাজটা করি। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সমস্যা সমাধানের কাজও আমরা করি। এর আগে গার্মেন্ট সেক্টরে বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আমরা কাজ করেছি। পাওয়ার প্লান্টের ফুয়েল মেজারমেন্টের কাজ করেছি। এ রকম অনেক সমস্যার সমাধান করছি, সাধারণত যেটির রেডিমেড সলিউশন মার্কেটে পাওয়া যায় না। অন্যরকম সফটওয়্যার লিমিটেড ভোট কাউন্টিং, এডুকেশন ম্যানেজমেন্ট, অ্যাকাউন্টিং সফটওয়্যারসহ গ্রাহকের চাহিদা অনুসারে সফটওয়্যার তৈরি করে দেয়। পাইল্যাবসের গবেষণালব্ধ প্রযুক্তিপণ্য উৎপাদন ও বিপণনের কাজ করে আমাদের প্রতিষ্ঠান অন্যরকম ইলেকট্রনিক্স।

অন্যরকম গ্রুপের আরেকটি প্রতিষ্ঠান টেকশপ বিডি। টেকশপের শুরুটাও সমস্যার সমাধান করার ভাবনা থেকেই। ছাত্রাবস্থায় দেখেছি ইলেকট্রনিক ডিভাইস নিয়ে গবেষণা করতে গেলে বাজারে উপকরণ পাওয়া যায় না। আমি রোবট বানাব, বাজারে সেটার উপকরণ নেই। ফলে করতে হয় উল্টোটা। বাজারে কী উপকরণ পাওয়া যায়, তারপর সে অনুসারে চিন্তা করতে হতো কী বানানো সম্ভব। টেকশপ বিডির মাধ্যমে এখন যেকোনো উপকরণ দেশেই পেয়ে যাচ্ছে।

অন্যরকম গ্রুপের প্রতিষ্ঠান রকমারি ডটকম বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে। মানুষের দোরগোড়ায় বই পৌঁছে দেওয়ার কাজ করে রকমারি। বই পাওয়াটা একটা সমস্যা। ঢাকার বাইরে যারা আছে, তাদের জন্য তো আরো সমস্যা। ঘরে বসে বাংলাদেশের যেকোনো জায়গা থেকে বই অর্ডার করলে আমরা বই পৌঁছে দিই, এরপর টাকা নিই।

আমার ক্ষেত্রে অনেক প্রতিবন্ধকতা ছিল। আমি মনে করি এটা থাকা ভালো। কেউ যখন দৌড়াতে যায়, তখন সামনে দেয়াল এসে দাঁড়ালে বোঝা যায় তার সত্যিকারের দৌড়ানোর মানসিকতা আছে কি না। যে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ, সে দেয়াল ডিঙিয়ে চলে যাবে। যে দুর্বল মানসিকতার, বলবে আমি কিভাবে এগোব। সামনে দেয়াল। সমস্যা থাকবেই। পৃথিবীর এমন কোনো কাজ নেই, যেখানে সমস্যা নেই। এটাকে অজুহাত দেখিয়ে যারা পিছিয়ে যায়, আমি বলব, তাদের মাঠে নামাই উচিত নয়।

আমরা শুরু করেছিলাম প্রায় শূন্য হাতে। এখন আমাদের এখানে খণ্ডকালীন পূর্ণকালীন মিলিয়ে প্রায় এক হাজার মানুষ কাজ করে। এটা এক দিনে হয়নি। ২০০৬ সালে প্রথম অফিস নেই। এর আগে আমরা বুয়েটের হলে বসে কাজ করেছি। ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন কিন্তু বুয়েটের হলেই বানানো। অফিস নেওয়ার পর প্রতি মাসে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা জোগাড় করতে হতো। কিভাবে ব্যবসা পরিচালনা করতে হয় জানতাম না। মাঠে নেমে গেছি সাহস করে। ধাক্কা খেয়ে কিছু শিখেছি। এখনো শেখা বাকি।

0 comments:

Post a Comment