আজ একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার মৃত্যু বার্ষিকী। যার আরো একটা পরিচয় হিসেবে তাকে পপ সংগীতের অগ্রপথিক মনে করা হয়। আজ সেটা উহ্য থাক। তার নাম "আজম খান"। সে আমলে তার ছিল তুখোড় ক্রেজ। আমার বাপ উনার এত বিশাল ভক্ত ছিলেন যে আমার নাম রেখে দিলেন তার নামে। এরকম ঘটনা আছে ভুড়ি ভুড়ি।
উনার জন্ম ২৮ শে ফেব্রুয়ারী ১৯৫০ সাlলে। পিতার নাম আফতাবউদ্দিন খান। ১৯৬৮
সালে তিনি সিদ্ধেশরী স্কুল থেকে বানিজ্য বিভাগ থেকে এসএসসি পাশ করেন। ১৯৭০
সালে টি অ্যান্ড টি কলেজ থেকে বাণিজ্য বিভাগে দ্বিতীয় বিভাগে উত্তীর্ণ
হন। এরপরে আর লেখাপড়া করেননি। এরপর মুক্তিযুদ্ধ, দেশ, গান তার জীবনকে
ভাসিয়ে নিয়ে যায়।
১৯৬৯ সালে ইন্টার প্রথম বর্ষের ছাত্র থাকাকালীন অবস্থায় প্রথমবারের মত দেশের জন্য লড়াইয়ে নামেন। উনসত্তরের গণ অভ্যুত্থানে তিনি "ক্রান্তি শিল্পী গোষ্ঠীর" সদস্য ছিলেন। পরাধীনতার বিরুদ্ধে গান গেয়ে মানুষকে সচেতন করে বেড়িয়েছেন পাড়া-মহল্লার প্রান্তে প্রান্তে। ১৯৭১ সালে ২৬ শে মার্চের ভয়াল কালরাতের পরে সিদ্ধান্ত নেন যুদ্ধে যাবেন। বাবার অনুমতি চাইলে আশীর্বাদ করে বলেন "যুদ্ধে যাবি যা, তবে দেশ স্বাধীন না করে ফিরবি না"।
এরপরে এক প্রকার হেঁটে হেঁটে আগরতলা চলে যান আজম খান। যুদ্ধ প্রশিক্ষন নিয়েছিলেন ভারতের মেলাঘরে। প্রশিক্ষন এবং যুদ্ধচলাকানীন সময়ে তিনি লড়াইয়ের আরো একটি বাড়তি দায়িত্ব পালন করতেন। সহযোদ্ধাদের গান গেয়ে অনুপ্রানিত করতেন।
প্রশিক্ষন পর্ব শেষ হবার পরে তার ফ্রন্ট নির্বাচিত হয় কুমিল্লা। সেখানেই তিনি তার মুক্তিযুদ্ধের প্রথম যুদ্ধটি করেন। প্রথম দফাতেই শত্রু সেনাদের সাথে সরাসরি যুদ্ধ। সেখান থেকে সাফল্য নিয়ে ফেরেন আগরতলা। এবার গেরিলাযুদ্ধের পালা। কর্নেল খালেদ মোশাররফের অধীনে ২ নম্বর সেক্টর থেকে যুদ্ধে নিয়োজিত হন। ঢাকার গেরিলা যুদ্ধের সেকশন কমাণ্ডার ছিলেন তিনি। ঢাকা এবং এর আশেপাশের বহু এলাকায় তার নেতৃত্বে সফল গেরিলা অপারেশন হয়। তবে মূলত তিনি যাত্রাবাড়ি-গুলশান এলাকার অপারেশনের দায়িত্ব প্রাপ্ত ছিলেন। এরমধ্যে সবচাইতে প্রানিধানযোগ্য "অপারেশন তিতাস"। হোটেল কন্টিনেন্টাল, হোটেল পুর্বানীর গ্যাস লাইন উড়িয়ে দেয়া। এই অপারেশনে তিনি বাম কানে আঘাতপ্রাপ্ত হন এবং শ্রবনশক্তি অনেকটা হারিয়ে ফেলেন। গেরিলা যুদ্ধ শেষ করে ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সহযোদ্ধাদের নিয়ে ঢাকায় প্রবেশ করেন এবং মাদারটেকের কাছে সংগঠিত "ত্রিমোহনীর যুদ্ধে" পাকিস্তানী সেনাদের পরাজিত করেন।
যুদ্ধ পরবর্তী আজম খানের জীবন ছিল একাধারে গ্ল্যামার, খ্যাতিতে পরিপুর্ন। ঠিক যেন কল্পনার চাইতেও বেশী সুন্দর, বেশী পরিপুর্ন। কিন্তু শেষ জীবনটা বড্ড গোলমেলে। প্রায় বিনা চিকিৎসায় অভাব অনটনের সংসার একপাশে রেখে অমরত্বের পানে পাড়ি জমান আজম খান।
যেখানেই থাকেন ভাল থাকেন, প্রিয় নায়ক। অনেক অনেক শুভ কামনা এবং অসীম ভালবাসা...
১৯৬৯ সালে ইন্টার প্রথম বর্ষের ছাত্র থাকাকালীন অবস্থায় প্রথমবারের মত দেশের জন্য লড়াইয়ে নামেন। উনসত্তরের গণ অভ্যুত্থানে তিনি "ক্রান্তি শিল্পী গোষ্ঠীর" সদস্য ছিলেন। পরাধীনতার বিরুদ্ধে গান গেয়ে মানুষকে সচেতন করে বেড়িয়েছেন পাড়া-মহল্লার প্রান্তে প্রান্তে। ১৯৭১ সালে ২৬ শে মার্চের ভয়াল কালরাতের পরে সিদ্ধান্ত নেন যুদ্ধে যাবেন। বাবার অনুমতি চাইলে আশীর্বাদ করে বলেন "যুদ্ধে যাবি যা, তবে দেশ স্বাধীন না করে ফিরবি না"।
এরপরে এক প্রকার হেঁটে হেঁটে আগরতলা চলে যান আজম খান। যুদ্ধ প্রশিক্ষন নিয়েছিলেন ভারতের মেলাঘরে। প্রশিক্ষন এবং যুদ্ধচলাকানীন সময়ে তিনি লড়াইয়ের আরো একটি বাড়তি দায়িত্ব পালন করতেন। সহযোদ্ধাদের গান গেয়ে অনুপ্রানিত করতেন।
প্রশিক্ষন পর্ব শেষ হবার পরে তার ফ্রন্ট নির্বাচিত হয় কুমিল্লা। সেখানেই তিনি তার মুক্তিযুদ্ধের প্রথম যুদ্ধটি করেন। প্রথম দফাতেই শত্রু সেনাদের সাথে সরাসরি যুদ্ধ। সেখান থেকে সাফল্য নিয়ে ফেরেন আগরতলা। এবার গেরিলাযুদ্ধের পালা। কর্নেল খালেদ মোশাররফের অধীনে ২ নম্বর সেক্টর থেকে যুদ্ধে নিয়োজিত হন। ঢাকার গেরিলা যুদ্ধের সেকশন কমাণ্ডার ছিলেন তিনি। ঢাকা এবং এর আশেপাশের বহু এলাকায় তার নেতৃত্বে সফল গেরিলা অপারেশন হয়। তবে মূলত তিনি যাত্রাবাড়ি-গুলশান এলাকার অপারেশনের দায়িত্ব প্রাপ্ত ছিলেন। এরমধ্যে সবচাইতে প্রানিধানযোগ্য "অপারেশন তিতাস"। হোটেল কন্টিনেন্টাল, হোটেল পুর্বানীর গ্যাস লাইন উড়িয়ে দেয়া। এই অপারেশনে তিনি বাম কানে আঘাতপ্রাপ্ত হন এবং শ্রবনশক্তি অনেকটা হারিয়ে ফেলেন। গেরিলা যুদ্ধ শেষ করে ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সহযোদ্ধাদের নিয়ে ঢাকায় প্রবেশ করেন এবং মাদারটেকের কাছে সংগঠিত "ত্রিমোহনীর যুদ্ধে" পাকিস্তানী সেনাদের পরাজিত করেন।
যুদ্ধ পরবর্তী আজম খানের জীবন ছিল একাধারে গ্ল্যামার, খ্যাতিতে পরিপুর্ন। ঠিক যেন কল্পনার চাইতেও বেশী সুন্দর, বেশী পরিপুর্ন। কিন্তু শেষ জীবনটা বড্ড গোলমেলে। প্রায় বিনা চিকিৎসায় অভাব অনটনের সংসার একপাশে রেখে অমরত্বের পানে পাড়ি জমান আজম খান।
যেখানেই থাকেন ভাল থাকেন, প্রিয় নায়ক। অনেক অনেক শুভ কামনা এবং অসীম ভালবাসা...


0 comments:
Post a Comment